হামহাম জলপ্রপাতে বর্জ্য পরিষ্কার করল বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

মোঃ পারভেজ হাসান , বশেমুরবিপ্রবি সংবাদদাতা :

হাম হাম বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গভীরে কুরমা বন বিট এলাকায় অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক জলপ্রপাত বা ঝরণা। জলপ্রপাতটি ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের শেষাংশে পর্যটন গাইড শ্যামল দেববর্মার সাথে দুর্গম জঙ্গলে ঘোরা একদল পর্যটক আবিষ্কার করেন। আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে সারাদেশ থেকে ছুটে আসতে শুরু করেন হাজারো প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটক। পর্যটকরা অত্যন্ত দুর্গম পথ পাড়ি দেবার জন্য খাবার এবং প্লাস্টিকের পানীর বোতল সঙ্গে করে নিয়ে থাকেন এবং খাবারকে পানির স্পর্শ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রায়ই পলিথিন ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে পর্যটকরা প্রায়ই সেসব ব্যবহৃত জিনিস বহন করে আবার নিয়ে আসতে আগ্রহ দেখান না এবং যত্রতত্র ফেলে নোংরা করেন ঝরণার নিকট-অঞ্চল। যা ঝরণা এমনকি জঙ্গলের সৌন্দর্য্যহানির পাশাপাশি পরিবেশের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি সেখানে ঘুরতে গিয়েছিলেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পাঁচজন শিক্ষার্থী। তারা পর্যটন এলাকার এইরকম দূষিত পরিবেশ দেখার পর নিজেরা মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন এইগুলো পরিষ্কার করবেন। পাঁচ বন্ধু মিলে শুরু করেন বর্জ্য অপসারণের কাজ। দুইটি দলে বিভক্ত হয়ে পাহাড়ের উঁচুনিচু দুর্গম রাস্তা থেকে কুড়িয়ে তোলেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিকের পানির বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেট ইত্যাদি জাতীয় বিভিন্ন বর্জ্য। পরে সবগুলোকে একত্রিত করে এলাকার স্থানীয় একজন পরিচ্ছন্নকর্মীর দ্বারা অপসারণের ব্যবস্থা করেন। 

পরিচ্ছন্ন অভিযান সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের একজন রাকবী আহসান রমিম জানান,  ‘আমাদের এই অভিযানের উদ্দেশ্য পর্যটন এলাকা পরিষ্কারের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি। আমাদের এ কাজ  দেখে যদি কেউ ব্যবহৃত পানির প্লাস্টিকের বোতল যত্রতত্র না ফেলে পুনরায় ফেরত আনে তাহলেই সার্থক মনে করব। আমাদের এই কাজে হয়তো এখানকার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে সব বদলে যাবে না। প্রতিবছর এ পথে পযটক আসা শুরু হওয়ার আগে এ ধরনের কর্মসূচি নেওয়া প্রয়োজন। এতে করে পর্যটকেরা একটু হলেও সচেতন হবে বলে আশা করছি।’

পূর্ববর্তী খবর“পানিতে তলিয়ে গেছে রাঙ্গামাটি পর্যটনের ঝুলন্ত ব্রীজ”
পরবর্তী খবরপাঞ্জাবের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হলেন চরণজিৎ সিং চান্নি

Leave a Reply