১২ জন পেলেন চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি দোনাগাজী পদক

চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি দোনাগাজী পদক ২০২০ ও ২০২১ ঘোষণা করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে গতবছর এ আয়োজন বন্ধ থাকায় এবার দুই বছরের পদক একসঙ্গে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সারাদেশ থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১২ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে পদকপ্রাপ্তদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

২৩ মে বিকেলে জুরি বোর্ডের প্রধান সমন্বয়কারী কবি শিউলী মজুমদার ও উদযাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী জয়ন্তী ভৌমিকের যৌথ বিবৃতিতে এ পদক ঘোষণা করা হয়।

২০২১ সালে কবিতায় মোহাম্মদ নূরুল হক, কথাসাহিত্যে শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিলুফা আক্তার, প্রবন্ধে ফারুক সুমন, অনুবাদে মামুন রশীদ, ফিচার ও ভ্রমণসাহিত্যে আবু আফজাল সালেহ, লিটলম্যাগ সম্পাদনায় কবি প্রত্যয় হামিদ এ পদক পেয়েছেন।

২০২০ সালে কবিতায় আজিজ কাজল, প্রবন্ধে জোবায়ের মিলন, নাটকে প্রণব কুমার রায়, ফিচার ও ভ্রমণসাহিত্যে রিফাত কান্তি সেন, সংগঠনে নীহার রঞ্জন হালদার এবং বাচিকশিল্পে দীপান্বিতা দাস পেয়েছেন এ পদক।

চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি নূরুন্নাহার মুন্নি জানান, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে এ পদক তুলে দেওয়া হবে। অনলাইনের মাধ্যমেই সব আয়োজন সম্পন্ন হবে। একাডেমির খরচে লেখকের ঠিকানায় পদক পৌঁছে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুল্লা কাহাফ, পরিচালক দুখাই মুহাম্মাদ ও নন্দিতা দাস, গিটারিস্ট দিলীপ কুমার ঘোষ, লাইব্রেরি পরিচালক আইরিন সুলতানা লিমা প্রমুখকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে পদক প্রাপ্ত অধ্যাপক ড.নিলুফা আক্তারে কাছে অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি’কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা যারা নিভৃতে সাহিত্যচর্চা করি তাদের জন্য এই স্বীকৃতি একটি ইতিবাচক দিক। সাহিত্যচর্চার জন্য যেমন গোষ্ঠীগত চেতনা সহযোগিতার প্রয়োজন হয় না; তেমনি কাজের মূল্যায়ন যারা করার তারা ঠিকই করেন। মূল্যায়নকারীর ওজনের চেয়ে বরং তিনি বা তারা কতটুকু নিষ্ঠ সেটা গুরুত্বপূর্ণ। সে বিবেচনাতে আমি চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির একনিষ্ঠতা ও শুদ্ধতাকে সাধুবাদ জানাই।’

শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আমি অধ্যাপক নিলুফা আক্তারকে অভিনন্দন জানাই। বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে তাঁর অবদান প্রশংসাযোগ্য। আশা করি শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি সাহিত্যের বিভিন্ন অঙ্গনে সবসময় তাঁর সরব উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে ।

উল্লেখ্য, মধ্যযুগের কিংবদন্তি পুঁথিসাহিত্যিক, চাঁদপুরের কীর্তমান ব্যক্তি কবি দোনাগাজীর সম্মানে ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো পদক প্রবর্তন করে চর্যাপদ একাডেমি। এরপর প্রতিবছর সারাদেশ থেকে শিল্প-সাাহিত্যের শুদ্ধতম ব্যক্তিকে খুঁজে পদক দেওয়া হয়।

২০১৯ সালে কথাসাহিত্যে মনি হায়দার, কবিতায় অনু ইসলাম, গবেষণা সাহিত্যে এএসএম ইউনুছ, সার্বিক সাহিত্যে মোস্তফা হায়দার, লিটলম্যাগ সম্পাদনায় সুমন কুমার দত্ত, সংগীতে মোহাম্মদ ইউসুফ ও বাচিকশিল্পে জেরিন সিঁথিকে এ পদক দেওয়া হয়।

পূর্ববর্তী খবরবগুড়ার আদমদীঘিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন
পরবর্তী খবরমানববন্ধনে যবিপ্রবি; স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্যাম্পাস খোলার দাবি

Leave a Reply