অপ্রতিরোধ্য উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আলোয় আলোকিত ঈশ্বরদী

ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ অপ্রতিরোধ্য উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় দেশের অন্যতম উন্নত শহর এখন পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলা।

ঈশ্বরদী ঘিরে রয়েছে দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে জংসন স্টেশন সহ দেশের দীর্ঘতম রেলওয়ে হার্ডিঞ্চ সেতু, সড়ক পথে দক্ষিনবঙ্গ যোগাযোগের সাথে রয়েছে সৌন্দর্যময় লালনশাহ সেতু, রয়েছে ঈশ্বরদী বিমান বন্দর, ঈশ্বরদী ইপিজেড সহ রুপপুর নৌবন্দর। বিভিন্ন কৃষিজাত পন্যের গবেষনা কেন্দ্র, আখ গবেষনা কেন্দ্র সহ রয়েছে একটি সুগার মিল। বিভিন্ন সকল সরকারী দপ্তর সহ বেসরকারি ব্যাবসায়ীক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এই ঈশ্বরদীতে।

এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে কয়েক লাখ মানুষের আর এজন্যই ঈশ্বরদীকে উন্নত বানিজ্যিক শহর বলা হয়ে থাকে।

এই শহর ঘিরে সাধারন মানুষের এখন সময়ের দাবী ঈশ্বরদীকে জেলা হিসাবে দেখার।

ঈশ্বরদী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত প্রকল্প ঘিরে আলোয় আলোকিত হয়ে উঠছে ঈশ্বরদীর জনপদ। যেখানে একসময় বিষাক্ত সাপের অভয়ারণ্য ছিল, সেখানেই এখন বিশালাকৃতির সুউচ্চ অনেক ভবন উঠেছে। সন্ধ্যার পর যেখানে একসময় নিকষ কালো আঁধার নেমে আসত, সেখানে এখন বিদ্যুতের আলো ঝলমল করছে।

ঈশ্বরদী-কুষ্টিয়া সড়কের দিয়াড় সাহাপুর নতুনহাট মোড় থেকে প্রকল্প এলাকা রূপপুর পর্যন্ত এমনই চিত্র এখন দৃশ্যমান।

অতীতে কেউ কল্পনাই করেনি, এই অজপাড়াগাঁয়ে এত আধুনিক ভবন নির্মিত হয়ে গ্রাম শহরে পরিণত হবে। রূপপুর প্রকল্পের এই আধুনিক ‘গ্রিন সিটি’ ঘিরেই বদলে যাচ্ছে পাকশীসহ আশপাশের এলাকার চিত্র।

১৯৬১ সালে পদ্মার তীরে ঈশ্বরদীর রূপপুরে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রয়াত সাবেক ভূমিমন্ত্রী ভাষাসৈনিক,বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আলহাজ্ব শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর সংসদে নতুন প্রস্তাবনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের অক্টোবরে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর। পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের ঢালাইকাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকার আশা করছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটের বিদ্যুত জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হবে। পরের বছর চালু হবে সমান ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট।

প্রায় ৮ হাজার জনবল এখন এই প্রকল্পে কাজ করছে, যার মধ্যে রাশিয়ানসহ বিদেশি জনবল রয়েছে ৩ হাজারের বেশি। বিদ্যুত কেন্দ্রের রাশিয়ান কর্মকর্তাদের বসবাসের আবাসন প্রকল্প গ্রিন সিটির কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের জুলাই মাসে। ৩৬ দশমিক ১১ একর জমিতে গ্রিন সিটি নির্মাণের কাজও পূর্ণোদমে চলছে। বাস্তবায়নে রয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। আবাসনের জন্য মোট ২১টি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এগুলোর মধ্যে ২০ তলা ১২টি, ১৬ তলা সাতটি এবং ১৫ তলা বিশিষ্ট দুটি ভবন রয়েছে। এ পর্যন্ত ১০টি আবাসিক ভবনের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। আকাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে সম্পূর্ণ শেষ হওয়া ছয়টি ২০ তলা এবং চারটি ১৬ তলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন ভবন।
১৫ তলার দুটি ভবনে ১৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট থাকছে। ২০ তলাবিশিষ্ট তিনটি ভবনে ১২৫০ ও ৮৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে। ডরমেটরি কাম মালটিপারপাস কমার্শিয়াল ২০ তলা একটি ভবন নির্মাণের টেন্ডার ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। ফায়ার স্টেশন ও পাওয়ার সাব স্টেশনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টও গ্রিন সিটিতে থাকছে। আরো বেশ কয়েকটি ভবনের কাজ চলমান রয়েছে। কোয়ার্টারগুলোতে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এছাড়া গ্রিনসিটিতে একটি দোতলা মসজিদ ভবন, ছয় তলাবিশিষ্ট স্কুল ভবন, দ্বিতল সাবস্টেশন, জেনারেটর, পাম্পহাউজ ভবন, খেলার মাঠ, গেস্টহাউজ ও ফোয়ারা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পে কর্মরত দেশি ও বিদেশিরা এই গ্রিন সিটিতে বসবাস করবেন। বিদ্যুত প্রকল্পে কর্মরত বেশির ভাগ রাশিয়ানসহ বিদেশিরা ইতিমধ্যে গ্রিন সিটিতে বসবাস শুরু করে দিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নির্মিত ভবনগুলোতে আসবাবপত্র সরবরাহ হয়েছে। এসি, ইন্টারনেট সংযোগ, টেলিফোন, রান্নার গ্যাস সরবরাহ, এমনকি বাথরুমে গিজারের ব্যবস্থাও সব ফ্ল্যাটে রাখা হয়েছে।

পাকশী ইউনিয়নের রুপপুর এলাকার বাসিন্দা শ্রমিকনেতা ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রশীদুল্লাহ ও ঈশ্বরদীর কৃতি সন্তান আ’লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান শরীফ কনক বলেন, প্রয়াত সাবেক ভূমিমন্ত্রী তার অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের ফলে ঈশ্বরদী উপজেলা উন্নত শহরে পরিনত হয়েছে। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বেই দেশের সর্ববৃহৎ এই রুপপুর পারমানবিক প্রকল্প আজ আলোর মুখ দেখতে সক্ষম হচ্ছে। দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এই প্রকল্পের কাজ। দেশের অন্যতম উন্নত শহর এই ঈশ্বরদী।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. শৌকত আকবর বলেন, ১২ মাসের মধ্যে তিনটি ২০ তলা ভবন নির্মাণ করে প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টরা বিরল নজির স্থাপন করেছেন। এ কাজের জন্য অবশ্যই তারা প্রশংসার দাবিদার।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান রূপপুর প্রকল্পকে দ্বিতীয় প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ আখ্যা দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মিত্রশক্তি রাশিয়া এই পারমাণবিক প্রকল্প নির্মাণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে আবারও প্রমাণ করেছে যে তারা আমাদের পরম বন্ধু। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে রাশিয়ান সরকারের (জিসিসি) চুক্তিপত্র রয়েছে। তাতে নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাশিয়ানদের আবাসনের ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে না পারলে বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দিতে হতো প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। তাই রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত প্রকল্পের নির্মান কাজকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আমরা বিশ্বাস করি পাবনার ঈশ্বরদী সহ গোটা বাংলাদেশকে অপ্রতিরোধ্য উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় রুপপুরের আলোয় আলোকিত করবে একদিন।

পূর্ববর্তী খবর“ইয়েমেনে অভিবাসন কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৮, আহত ১৭০”
পরবর্তী খবরকুবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের একাংশের নেতৃত্বে ড. দুলাল-জুলহাস

Leave a Reply