Sapio-sexual ( স্যাপিও-সেক্সুয়াল ) কি?

ভালো লাগা মন্দ লাগা আপনার মাইন্ড এর ব্যাপার। কিন্তু যখন আপনি সেই ভালোলাগার জন্য বাহ্যিক ত্বক,গ্লোরিয়াস আইস্, পারফেক্ট বডি ইত্যাদিকে উপমা হিসাবে ব্যবহার না করে বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তা, সৃজনশীল মানুসিকতা,যুক্তিতে জড়ানো কথাবার্তাকে ভালোলাগার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবেন তখন আপনাকে বলা হবে স্যাপিও-সেক্সচুয়াল (Sapio-sexual) ।

বিখ্যাত কলিন্স ডিকশনারিতে ব্যাপারটাকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় “One who finds intelligence the most sexually attractive feature are sépio-sextual.”

(যিনি বুদ্ধিমত্তাকে সর্বাধিক যৌন আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্যটির একটি হিসেবে সন্ধান করেন তিনি হ’ল স্যাপিও-সেক্সচুয়াল)

এরা আপনাকে হুট করে ভালো লাগা মন্দ লাগার মাপকাঠিতে পরিমাপ করবে না। আপনার সাথে কথা বলবে,আপনি কি বলছেন মনোযোগ সহকারে শুনে বুঝার জন্য চেষ্টা করবেন। আবার আপনি তার কথা গুলোকে কিভাবে পরিমাপ করছেন সেটাও মাথায় রাখবেন। এভাবে একটু একটু করে আপনার সাথে সে গড়ে তুলবে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। আপনাকে নিয়ে বিস্তর গবেষণা করবে বলতে পারেন সেটা হবে কিন্তু আপনি ঢের বুঝবেন না।

স্যাপিওরা কি করবে জানেন?
যারা নিজের অনুভূতিকে যুক্তির সাহায্যে ব্যাখ্যা করতে পারেন। যারা চট করে মেজাজ হারাবেন না তাদেরকে এরা পছন্দ করেন। এমনকি যারা যেকোন জটিল পরিস্থিতিতে নিজেকে শান্ত রেখে ব্যাপারটাকে সমাধান করতে পারেন নিজের আয়ত্তের মধ্যে আনতে পারেন তাদেরকে এরা বন্ধুত্বের প্রস্তাব দেন।

তারপর তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যুক্তির খাতিরে আপনার সাথে বন্ধুত্বকে বহাল রেখে যাবেন।

এরা কিন্তু আপনার থেকে কোন সময় উপহার পাওয়াকে কল্পনা করতে পারেন না। আপনি যদি তাদের সাথে গল্প করার জন্য কোন কফি-শপ বা লাইব্রেরি কে অপশন হিসেবে রাখেন তারা কিন্তু লাইব্রেরিকে চুজ করবে।

এভাবেই চলতে থাকে একজন স্যাপিওর বন্ধুত্ব।

আলেকজান্ডার পোপ বলেছিলেন
” Charms strike the sight, but merit wins the soul.”
(যাদুমন্ত্র দৃষ্টিশক্তিকে আঘাত করে, কিন্তু যোগ্যতা আত্নাকে জিতে নেয়)

ঠিক সেই কাজটিই করেন স্যাপিওরা। এরা আপনার সাদা ত্বক এর থেকে মস্তিষ্ক ঢুকানো বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তা, কথাবার্তাকে বেশি পছন্দ করেন।

একজন ব্যক্তি স্যাপিও কি না তা বের করতে আপনি কয়েকটি লক্ষ্মণ এর প্রতি দৃষ্টিতে রাখতে পারেনঃ
১. করোও বুদ্ধিদীপ্ত কথা দ্বারা অনুপ্রানিত হওয়া।
২. জীবনসঙ্গী বা বন্ধু বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মেধাকে সর্বপ্রথম স্থান দেওয়া।
৩. যৌক্তিক তর্ককে পছন্দ করা।
৪.করোও নির্বুদ্ভিতা দেখে বিরক্ত হওয়া।
৫.কফিশপে বাদে লাইব্রেরিতে সাক্ষাৎ কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
৬.একজন ভালো মানের শ্রোতা।
৭. নতুন কিছু জানার জন্য সব সময় ক্ষুধা লেগেই থাকা।

রুহুল আমিন
কেমিক্যাল ইন্জিনিয়ারিং বিভাগ।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

পূর্ববর্তী খবর‘ইসরাইলের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে হামাস-বিরোধী প্রচারণায় নেমেছে আমিরাত’
পরবর্তী খবরবিকল্প পদ্ধতিতে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা: দীপু মনি

Leave a Reply